গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা সন্ত্রাসীদের দ্বারা সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। চাঁদাবাজীর ঘটনায় ফেসবুক লাইভ করার কারণে নয়, পুলিশের ধারণা সন্ত্রাসীদের মারামারি ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ৭ আগস্ট রাত ৮ টার দিকে ঘটেছে । নিহত তুহিন ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ এর গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে তিনি পরিবারের সাথে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাতেই বসবাস করতেন ।
ঘটনার একটি নিরাপত্তা ক্যামেরা ভিডিও ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন যুবক জনসমক্ষে একজন তরুণীকে মারধর করছেন তখন ৬-৭ জন যুবক চাপাতি, রামদা ও ছুরি নিয়ে ওই যুবকের ওপর হামলা করার চেষ্টা করছেন। ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে গেলে অস্ত্রধারীরা তাকে ধাওয়া করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাংবাদিক তুহিন এই ঘটনার ভিডিও করছিলেন । সেই সময় অস্ত্রধারীরা তাকেও ধাওয়া করে । তিনি জীবন রক্ষা করতে দৌড়ে ঈদগাঁ মার্কেট এলাকার একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন । কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করেই তাকে বেপরোয়াভাবে কোপাতে থাকে । ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তারপর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায় ।
একই বর্ণনা দিয়েছেন সাংবাদিক তুহিনের বন্ধু শামীম। তিনি বলেন, ‘ অফিস থেকে বের হয়ে আমরা দু’জন হাঁটছিলাম। এসময় একজন মহিলার সাথে এক যুবকের মারামারি হচ্ছিল এমন সময় একদল সন্ত্রাসী ‘পাইছি পাইছি’ বলে ওই যুবককে ধাওয়া করে। এই ঘটনা দেখে তুহিন পেছন পেছন ভিডিও করতে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি সামনে এগিয়ে দেখি তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমি কয়েকটা ছেলের দৌড়াদৌড়ি লক্ষ করে পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখি তুহিন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ক্রাইম-উত্তর মো রবিউল হাসান বলেন, ‘ আমাদের ধারণা, অন্য একজনকে মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করার কারণে সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে ’।

+ There are no comments
Add yours