ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মঅবমাননার অভিযোগে জনরোষে হত্যাকাণ্ডের শিকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৭) এর ব্যাপারে ধর্মঅবমাননার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। জানা যায় গুজব ছড়িয়ে পড়লে দিপুকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পর উত্তেজিত জনতার কাছে তুলে দেন কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ। পরে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মলনে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, ভালুকা মডেল থানায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তারেক হোসেন, লিমন সরকার, মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিঝুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন ও মিরাজ হোসেন আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আলমগীর হোসেন পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের ফ্লোর ম্যানেজার এবং মিরাজ হোসেন আকন কোয়ালিটি ইনচার্জ। অন্যদিকে জেলা ডিবি আজমল হাসান সগীর, শাহিন মিয়া ও মো. নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক বলেন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শ্রমিকদের সঙ্গে দিপুর কর্মক্ষেত্রের ভেতর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ফ্যাক্টরির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। পরে বিষয়টি বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত না করে দিপুকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। হত্যার পর গাছের ডালে বেঁধে লাশে আগুন দেওয়া হয়।
পরিবার বলছে ষড়যন্ত্রের কথা
র্যাব বলছে, নিহত দিপু চন্দ্র দাস ডুবুলিয়া পাইওনিয়ার নিট ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। যার বয়সী ২৮ বছরের কাছাকাছি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানা থেকে ধরে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একপর্যায়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র করে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত দিপু চন্দ্র দাসের চাচাতো ভাই কার্তিক চন্দ্র দাস এক সাক্ষাতকারে বিবিসি বাংলাকে বলেন- ফ্যাক্টরির ভেতরে অনেক ঘটনা ঘটেছে” এবং সে কারণেই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে নিহতের বোনের দাবি শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে দিপু চন্দ্র দাসের দীর্ঘ দিনের বিরোধ ছিল। দিপু স্নাতক পাশ ছিলেন, তিনি ধর্ম নিয়ে যতেষ্ট জ্ঞান রাখেন। তার বোন মনে করেন দিপু কখনো অন্য ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার মতো না। তাদের ধারণা ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জনরোষ তৈরি করে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ফ্যাক্টরির মালিকপক্ষ জড়িত।

+ There are no comments
Add yours